গোপালের চিন্তা

sad-photo-boyগোপালের অনেক চিন্তা করে। এই চিন্তা করাই এখন তার একমাত্র কাজ। এই চিন্তা করার কাজটা সে শুরু করেছিল শিউলির জন্যে।

শিউলি গোপালের পাড়াতেই থাকত। শিউলির তখন ক্লাস সেভেন আর ক্লাস নাইনে পড়া ছেড়ে গোপাল তার বাবাকে মুদি দোকানে সাহায্য করতে শুরু করেছে। শিউলি রোজ সকালে গোপালের বাবার দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়ে বড় রাস্তায় হলুদ স্কুল বাসে উঠে যায়। সেই প্রথম শিউলিকে নিয়ে গোপালের চিন্তা শুরু হয়।

তারপর পরিচয়, লুকিয়ে দেখা, ঝালমুড়ি, সিনেমা। শিউলিও গোপালকে সাহস যোগাতে থাকে। গোপালেরও শিউলিকে নিয়ে চিন্তা করে সময় কাটতে থাকে।

সে বছরের দুর্গা পুজোটা গোপালের সবথেকে বেশী ভাল কেটেছিল। বাবার দোকান থেকে কায়দা করে সরানো টাকা দিয়ে সপ্তমীতে শিউলিকে নিয়ে বিকেলবেলা ট্যাক্সিতে ঘুরেছিল, অষ্টমীর দুপুরে ‘দিলওয়ালে’ দেখেছিল। তারপর নবমীর দিন বিকেল বেলা বালিগঞ্জ স্টেশনে দেখা করে ঠাকুর দেখতে যাবে ঠিক হয়েছিল।

কথামত বিকেল সারে চারটের সময়, গোপাল বালিগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছেও গেছিলো। শিউলি তখনও আসেনি। গোপাল অপেক্ষা করছিল। একটা করে লোকাল ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকছিল আবার বেরিয়েও যাচ্ছিলো, কিন্তু শিউলি আসছিলো না। এর মধ্যে দু-বার টিকিট চেকার এসে তার কাছে টিকিটও দেখে যায়। শিউলি কেন আসছে না? গোপাল চিন্তা শুরু করে।

গোপাল এখনও সেই চিন্তাই করে চলেছে।

Advertisements